মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমছে কেন !
স্কুল পাঠ্য বইতে ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটকে মানবশরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বলে তকমা এটে দিয়েছে। তার ফলে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি তাপমাত্রাকে জ্বর বলে জেনে এসেছি। কোনও কোনও পুরনো থার্মোমিটারে দেখার সুবিধের জন্য একটি লাল দাগ দিয়ে এই স্বাভাবিক তাপমানের সীমানাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এই নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বলা হচ্ছে, এই স্বাভাবিক তাপমাত্রার বিষয়টি বয়স, লিঙ্গ ও দিনের কখন নেওয়া হচ্ছে তার ভিত্তিতে আলাদা আলাদা হতে পারে। মানুষের শরীরের গড় তাপমাত্রা 98.6 ফারেনহাইট হলেও কিন্তু বাস্তবতা হল যে একটি "স্বাভাবিক" শরীরের তাপমাত্রা বিস্তৃত পরিসরের মধ্যে, 97 ফারেনহাইট থেকে 99 ফারেনহাইটের মধ্যে পড়তে পারে। এটি সাধারণত সকালে কম থাকে এবং তাপমাত্রার সময় বেড়ে যায়।
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ * সেলসিয়াস নয় !
শরীরের তাপমাত্রা নির্ভরশীল থার্মোমিটার কোথায় ব্যবহার করা হয় তার উপর। আমরা সবাই বগলের নিচে থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপি কি না তা সম্পর্কে আমার সঠিকভাবে জানা নেই। এখন কথা হচ্ছে যে, দেহের সব জায়গায় তাপমাত্রা একরকম থাকে না। Rectal/মলদ্বারে থার্মোমিটার ব্যবহার করে যে তাপমাত্রাটা নেওয়া হয় তা আমাদের দেহের কেন্দ্রস্থলের তাপমাত্রা প্রকাশ করে। আমরা এখন এই কেন্দ্রস্থলেই আগ্রহী। কারণ জ্বর আসলে তাপমাত্রা ওখানেই বাড়ে। মলদ্বারে তাপমাত্রা স্বাভাবিক, গড়ে ৯৭.৫°-৯৯.৫° এবং আমরা একেই স্বাভাবিক ধরে থাকি। অর্থাৎ দেহের তাপমাত্রা এর মধ্যে থাকলে তা স্বাভাবিক। একইভাবে মুখের তাপমাত্রা, যা সাধারণত জিহ্বার নিচ থেকে নেওয়া হয়; তা মলদ্বারের থেকে ০.৩°-০.৮° পর্যন্ত এবং বগলের নিচে থেকে নিলে, ০.৫°-১.৫° পর্যন্ত কম হতে পারে। এছাড়া নারীদের দেহের (vaginal) গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা পুরুষদের তুলনায় ০.৩°-০.৮° পর্যন্ত কম হতে পারে।
![]() |
এনালগ/ পারদ থার্মোমিটার |
এখন আসি দেশভিত্তিক। আমার জানামতে প্রতিটা দেশেই/হাসপাতালে তাপমাত্রার একটা স্বাভাবিক গড় থাকে যা তারা কিছুটা অনুসরণ করে। যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের বেশ কিছু দেশে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬° হিসেবেই ধরা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ±০.২°-০.৪° ও ধরা হয়। আমার জানামতে পুরো বিশ্বের ভিত্তিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রা এখনও ৯৮.৬° ফারেনহাইট। তবে জ্বর আছে কি না তা শুধু এর ভিত্তিতেই নিশ্চিত করা সম্ভব বলে আমি মনে করি না। যদিও ১০০.৪° ফারেনহাইট এর উপর তাপমাত্রাকে জ্বর ধরা হয়, তবুও যখন কোনো রোগী আমার কাছে আসে আমি তার জিহ্বা দেখি শুকিয়ে আছে কি না, চোখ দেখি, এরপর নিশ্চিতভাবে বলি তার জ্বর আছে কি না।
এবারে কয়েকটি তথ্য-
- সাম্প্রতিক একটি স্টাডিতে ১১,৪৫৮ জনের তাপমাত্রা (মুখে থার্মোমিটার নেওয়া) নিয়ে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি মানুষের শরীরের তাপমান ৯৭.৭ ডিগ্রি, ৮ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে এই সব মানুষদের শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ছিল
- দেখা গেছে, বাচ্চাদের শরীরের তাপমাত্রা মহিলাদের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে মহিলাদের শরীরের তাপমাত্রা পুরুষদের চেয়ে বেশি।
মানুষের গড় তাপমাত্রা কমছে কেন ?
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের অধ্যাপক জুলি পারসননেট এবং তার দল এই সিদ্ধান্তে আসার আগে 1862 থেকে 2017 সালের মধ্যে 190,000 মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা 677,000 তাপমাত্রার রিডিং বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষকদের মতে, তাপমাত্রার হ্রাস উচ্চতা, ওজন, জীবনযাত্রার অভ্যাস এবং উন্নত চিকিৎসা সুবিধার প্রাপ্যতার মতো বিভিন্ন কারণের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।
- সাধারণভাবে শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রির বেশি না হলে ওষুধ না খাওয়াই ভাল।
- আমাদের শরীরের তাপমাত্রা সকালের দিকে বেশি থাকে, বিশেষ করে সকাল ৬টায়।
অর্থাৎ, মূলকথা গড়ে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৭.৫°-৯৯.৫° ফারেনহাইট, তবে এটা ব্যক্তি এবং তাপমাত্রা মাপার ভেদের উপর নির্ভর করে। 98.6 ডিগ্রি ফারেনহাইট আর মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নেই!
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য থার্মোমিটার কোন টি !
মন্তব্যসমূহ