স্বাস্থ্যের কথা
এটি এক আশ্চর্যজনক মেডিকেল আবিষ্কার ছিল। কয়েক দশক ধরে যখনই কেউ কোনও রোগের নিরাময়ের জন্য মানব কোষের পরীক্ষা করার চেষ্টা করত তখন সেগুলো কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মারা যেত।
হেনরিয়েটা ল্যাক্স
হেনড়িয়েটা লেক্স, একজন দরিদ্র কালো আমেরিকান নারী । ১৯৫১ সালে পাঁচ সন্তানের জননী হেনড়িয়েটা জন হপকিন্স হাসপাতালে নিজের একটি রোগের চিকিৎসা র জন্য যান। তার কুঁচকিতে হঠাৎ হঠাৎ ব্যথা ও রক্তপাত হয় যা তার চাকরির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।
গাইনী বিশেষজ্ঞ রা পরীক্ষা করে দেখতে পান তার জরায়ু মুখে এক বড় ক্যানসার হয়েছে। সেজন্য সে সময় রেডিওথেরাপি ছিল সেরা চিকিৎসা, তাই চিকিৎসক তার ওই চিকিৎসা শুরু করেন। পাশাপাশি তার কিছু ক্যানসার কোষ নিয়ে প্যাথলজি পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয় ডা: জর্জ গে এর কাছে। ডাঃ গে বেশ কয়েক বছর ধরে জরায়ুর মুখ ক্যান্সার কোষ নিয়ে গবেষণা করছিলেন কিন্তু প্রতিবার রুগীদের কাছে থেকে কোষ নেয়ার পর পরই কোষগুলো মারা যাচ্ছিল। কিন্তু ডা: গে, হেনড়িয়েটা ল্যাক্স এর স্যাম্পল নেয়ার পর তা মরছিল না উপরন্তু প্রতি ২৪ ঘন্টা অন্তর তা বিভাজিত হয়ে দ্বিগুন হচ্ছিল।
যার অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে এখনও এই নিখুঁত কোষগুলি প্রায় অসীম পরিমাণ জীবিত।
ডাঃ গ্রে যে কোষগুলির মধ্যে প্রথম যেগুলি পরীক্ষা করেছিল তা ছিল পোলিও কোষ। কিন্তু কোষগুলো মারা যাচ্ছিলো নিয়মিত।
সরাসরি বেঁচে থাকা বেশিরভাগ কোষের মতো মারা যাওয়ার পরিবর্তে তাঁর কোষগুলো বেঁচে থাকায় এই মহিলার সাধারণ এক মৃত্যু পৃথিবীর মানবকুলের জন্য অসাধারণ উপকার এনে দেয়। লক্ষ কোটি মানুষ কে পঙ্গু ও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়।
শতাব্দীর শেষের দিকে তার কোষগুলি 1965 সালে প্রথম মানব-প্রাণী সংকর তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং হিউম্যান পাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিনগুলি লক্ষ লক্ষ লোকের জীবন বাঁচিয়েছিল।
আজ বিজ্ঞানীদের মতে, তার কোষের হিসাব প্রায় ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেগুলি ইবোলা, ক্যান্সার এবং টাইফয়েডের মতো রোগের ঔষধ বা ভ্যাকসিন খুঁজে পেতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
হেনরিটা ল্যাকস দুর্ভাগ্যক্রমে বিজ্ঞানে তার অবদান সম্পর্কে কখনই জানতে পারেন নি। কারণ তার চিকিত্সার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরে তিনি মারা গিয়েছিলেন; তার কোষগুলিও তার অজান্তেই নেওয়া হয়েছিল এবং তার পরিবার কেবল ২০ বছর পরে চিকিত্সা এবং বিজ্ঞানের জন্য কী করেছিল সে সম্পর্কে জেনেছিল। হেনড়িয়েটার কবর
সূত্র, নেচার সায়েন্স
মন্তব্যসমূহ