মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা, একজন স্বাস্থ্য গবেষক

মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা
একজন স্বাস্থ্য গবেষক 


ডাঃ মীরজাদি সেব্রিনা,MBBS, MPH, PhD FAIMER ফেলো




মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক, এপিডেমিওলজির অধ্যাপক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোতে করোনা আতংকের মধ্যে জনগনকে যে আত্মবিশ্বাসী মুখটি নির্ভরতা জোগাচ্ছেন তিনি প্রফেসর ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। আইইডিসিআর এর বর্তমান পরিচালক।

তিনি ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) এর প্রধান ছিলেন,  যা বাংলাদেশে রোগ নজরদারি, প্রাদুর্ভাব তদন্ত, রোগ নিয়ন্ত্রণ, মহামারী প্রতিরোধ এবং গবেষণা পরিচালনার জন্য শীর্ষ কেন্দ্র।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর মহামারীর সময় মন্ত্রী ও মেয়রদের সার্কাস মার্কা কথাবার্তায় জনগন বিভ্রান্ত ছিলো। কোন আস্থার জায়গা ছিলো না। কিন্তু যে আত্মবিশ্বাসী মুখ ডাঃ মীরজাদীর , আমাদের মত গরীব দেশের অপ্রতুল গবেষণার সুযোগের মধ্যেও তিনি যে নির্ভয়ে করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছেন, আমরা তাকে স্যালুট জানাই।

মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা; ব্যক্তিজীবন 

তাঁর জন্মস্থান ঢাকায়। ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে তিনি "মহামারী ও জনস্বাস্থ্য ও রোগ নিয়ন্ত্রন" বিষয়ে "নিপসম" থেকে মাস্টার্স ( এমপিএইচ) সম্পন্ন করেন অতঃপর কেমব্রিজ থেকে একই বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ৭১টিরও বেশি গবেষণাকর্ম আছে উনার বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব ও মহামারী বিষয়ে। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (NIPSOM) থেকে এপিডেমিওলজিতে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

IEDCR-এর পরিচালক হিসেবে তিনি ঢাকা বিমানবন্দরে ZIKA, MERS-CoV ইত্যাদির জন্য স্ক্রিনিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সময় প্রচুর নজরদারি কার্যক্রম, গবেষণা, জরুরী অবস্থার তদারকি করেছেন।  তার দল 2017 সালে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাবের সাথেও মোকাবিলা করেছে এবং বর্তমানে সাম্প্রতিক ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের জন্য মৃত্যু পর্যালোচনা কমিটির তত্ত্বাবধান করছে।  কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন, তার পদোন্নতির আগ পর্যন্ত, মীরজাদী আইইডিসিআর-এর প্রধান হিসেবে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির ফোকাল পার্সন ছিলেন। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে তিনবছর সহঃ পরিচালক ছিলেন তিনি। 

অদ্য ২৩ আগষ্ট ২০২০ তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজি অর্থাৎ সহকারী মহাপরিচালক নিয়োজিত হয়েছেন। তিনি ও বর্তমান মহাপরিচালক করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশকে এগিয়ে দেবেন। উনার মনোনয়ন এ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণা কার্যক্রমও জোরদার হবে বলে আশা করি।

সম্প্রতি তিনি লিভার জনিত সমস্যার জন্য এন্ডস্কপিক পরীক্ষা করাতে গিয়ে জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন ও সিঙ্গাপুরে আই সি ইউ তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সুস্থ্যতা কামনা করি। 

বাংলাদেশে  সরকারি নির্দেশনা বনাম প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ কোনগুলো ও এর বর্তমান প্রেক্ষাপট জানতে লিংকটি দেখতে পারেন। 

প্রার্থনা করি এ মহাদুর্যোগে আমাদের পথচলায় তিনি সফল হোন।
সূত্র,ওমেন ইন সায়েন্স,

মন্তব্যসমূহ