ভাইরাস যদি নড়াচড়া করতে না পারে তাহলে কিভাবে বংশবিস্তার করতে পারে?
ভাইরাস যদি নড়াচড়াই করতে না পারে জনসংখ্যা কি করে বাড়াবে।
আমি সেই ডিম থিওরির কথা বলি। ডিম ত নড়াচড়া করতে পারে না, তবে তা মুদির দোকান থেকে আপনার ঘরে কি করে এলো!এখন ডিমগুলো মুরগী দিয়ে তা দেন, ২১ দিনে বাচ্চাও ফুটে বেরুবে।
দেখুন ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় মানে নড়া চড়া বা একজায়গা থেকে অন্যজায়গায় যায়।
![]() |
চিত্রে, দেখুন আমরাই ভাইরাসকে এককাশিতে ৬ ফুট কখনো ১৮০ফুট পর্যন্ত এগিয়ে দিই। |
একবার যখন মানুষ বা পশুপাখীর শরীরে ভেতরে শ্বাসতন্ত্রের মেমব্রেনে পৌঁছে যাবে তখন এর অনেকগুলো হাত থাকে , যা উক্ত কোষের রিসেপ্টর এ আটকাতে পারে।

একেক ভাইরাসের এক এক রকম হাত।অতঃপর সেটা কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।

চিত্রে, ১, ভাইরাসের বাতাসে অবস্থান।
২, বাতাস থেকে শ্বাসতন্ত্রে আগমন,
৩, ভাইরাল স্পাইক এর রিসেপ্টরে সংযোজন,
৪, বাহক কোষে আবরনীমুক্ত হয়ে ভাইরাসের জিনোমের প্রবেশ,
৫, বাহক কোষের RNA তে সংযোজন , ভাইরাসের mRNA হতে ভাইরাল প্রোটিন তেরি ,
৬, পার্শ্ববর্তী কোষে আক্রমণ।
৭, এরপর সে কোষের বিপাক ক্রিয়া নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের কপি তৈরি করতে থাকে।
৮, একসময় কোষটিকে মেরে ফেলে পার্শ্ববর্তি কোষে চলে যায়। সেখানেও পুনরায় আক্রমন চালায়।
৯, এভাবে তাদের বংশবৃদ্ধি চলতে থাকবে।
জীবাণুরা কিভাবে ছড়ায়?
ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়া/ছত্রাক/পরজীবী জনিত রোগগুলো সংক্রামক হলেও সমস্ত জীবাণুঘটিত রোগ সংক্রামক নয়।
এর অর্থ তারা সর্বদা একজন ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায় না। যেমন, রেবিস ভাইরাস , কুকুরের কামড়ে হতে পারে। কিছু ভাইরাস মলের মাধ্যমেও ছড়ায়, যেমনঃ হেপাটাইটিস এ, ই ভাইরাস।
ভাইরাসগুলি হোস্ট কোষগুলিকে সংক্রামিত করার জন্য বিভিন্ন ট্রান্সমিশন রুটের একটি ব্যবহার করে , যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত,
- সরাসরি যোগাযোগ,
- পরোক্ষ যোগাযোগ ,
- সাধারণ পথ এবং
- বায়ুবাহিত সংক্রমণ
জীবাণুদের সরাসরি যোগাযোগ বা ট্রান্সমিশন
সরাসরি যোগাযোগের ট্রান্সমিশন রুটে একটি সংক্রামিত এবং অসংক্রমিত বিষয়ের মধ্যে চুম্বন, কামড় বা যৌন মিলনের মাধ্যমে শারীরিক যোগাযোগ প্রয়োজন। কিছু উল্লেখযোগ্য যৌনবাহিত ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে,
- হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস টাইপ 1 (এইচআইভি-1),
- হিউম্যান টি-লিম্ফোট্রপিক ভাইরাস টাইপ 1 (এইচটিএলভি-1),
- হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (এইচবিভি), এবং
- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস টাইপ 16 এবং 18 (এইচপিভি) -16 এবং HPV18, যথাক্রমে)।
জীবাণুদের পরোক্ষ সংক্রমণ
পরোক্ষ সংক্রমণের মাধ্যমে, জীবাণুটি দূষিত বস্তু বা উপকরণ যেমন চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ভাগ করা খাবারের পাত্রের সংস্পর্শের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।
জীবাণুর সাধারণ রুট সংক্রমণ
সাধারণ রুট সংক্রমণ বলতে বোঝায় যখন ব্যক্তিরা
- খাদ্য,
- জল,
- ওষুধ বা
- শিরায় তরল জাতীয় দূষিত উত্স থেকে জীবাণুর সংস্পর্শে আসে।
যেখানে
- সাইটোমেগালোভাইরাস একটি প্রস্রাব-সম্পর্কিত ভাইরাস,
- পোলিওভাইরাস,
- কক্সস্যাকি ভাইরাস,
- হেপাটাইটিস এ ভাইরাস,
- রোটাভাইরাস, অ্যাস্ট্রোভাইরাস এবং
- নোরোভাইরাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা মল-মুখের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয় ।
জীবাণুর বায়ুবাহিত সংক্রমণ
এয়ারবর্ন ট্রান্সমিশন বলতে ভাইরাসের এক্সপোজারের শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ বোঝায় যা হাত এবং বস্তুর উপর ফোঁটা, অ্যারোসল এবং শ্বাসযন্ত্রের নিঃসরণ আকারে হতে পারে।
এই রুটের মাধ্যমে সংক্রামিত কিছু উল্লেখযোগ্য ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস,
- ভেরিসেলা-জোস্টার ভাইরাস,
- হিউম্যান রাইনোভাইরাস,
- হিউম্যান অ্যাডেনোভাইরাস,
- রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাস,
- প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস,
- মেটাপনিউমোভাইরাস এবং
- করোনাভাইরাস।
সাবস্ক্রাইব করুন।স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রশ্ন, উত্তর বা উপদেশ পেতে শুধু হোয়াটস্যাপ +৮৮০১৮১৩৬৮০৮৮৬ এ মেসেজ দিন।
মন্তব্যসমূহ